― Advertisement ―

জাপানের ‘আয়রন লেডি’র নতুন রেকর্ড: স্ন্যাপ নির্বাচনে বিরোধীদের বড় ব্যবধানে হার

জাপানের রক্ষণশীল রাজনীতির চিরাচরিত প্রথা ভেঙে এক অনন্য উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেলেন সানাএ তাকািচি। সদ্য সমাপ্ত স্ন্যাপ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (LDP) ও জোট শরিকদের অভাবনীয় জয় দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছে। ৪৬৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে তাকািচি এখন জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুধু নিজের অবস্থানই দৃঢ় করলেন না, বরং এক শক্তিশালী ও স্থিতিশীল শাসনের বার্তা দিলেন। এই ভূমিধস জয় প্রমাণ করে যে, জাপানের ভোটাররা দীর্ঘদিনের পুরুষ-শাসিত কাঠামো থেকে বেরিয়ে একজন সাহসী ও দূরদর্শী নারী নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছেন।

রোববারের এই ফলাফল তাকািচির জন্য এক বিশাল ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর জন্য প্রথম বড় অগ্নিপরীক্ষা। নির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া ভাষণে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই রায় আসলে ভবিষ্যতের শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাপানের পক্ষে এক গণভোট। বিরোধী দলগুলো যেখানে একজোট হয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিল, সেখানে তাকািচির ‘সানা-ম্যানিয়া’ বা জনপ্রিয়তা ঝড়ের মতো সবকিছু উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর এই নিরঙ্কুশ জয়ের ফলে এখন সংসদে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ অনেকটাই মসৃণ হয়ে গেল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাকািচির এই উত্থান কেবল জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বৈশ্বিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনা এখন আরও গতি পাবে। এছাড়া, করনীতিতে আমূল পরিবর্তন এবং স্যানা-নমিক্স (Sanaenomics) এর মাধ্যমে জাপানের স্থবির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য এখন তাঁর হাতে পর্যাপ্ত আইনি ক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এখন তাকািচিকে তুলনা করা হচ্ছে ব্রিটেনের ‘আয়রন লেডি’ মার্গারেট থ্যাচারের সাথে। তাঁর এই সাফল্য জাপানি নারীদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগামী দিনে দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যে এই জয়কে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং অনেক দেশ আশা প্রকাশ করেছে যে, তাকািচির নেতৃত্বে জাপান এশীয় অঞ্চলে শান্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।