নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশে এক আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শুরুতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া গেলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা, অন্তর্দ্বন্দ ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ, ধর্ম ও পেশিশক্তির পুরোনো চর্চা রাজনৈতিক দলগুলো কেবল বজায়ই রাখেনি, বরং এবারের নির্বাচনে এর ব্যবহার আরও বেড়েছে। টিআইবি মনে করে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরিতে নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকার ঘাটতি এখন বেশ দৃশ্যমান।
সংবাদ সম্মেলনে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কোনো দলই তা পূরণ করেনি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর একজন নারী প্রার্থীও না দেওয়া এবং বড় দলগুলোর নগণ্য নারী প্রতিনিধিত্বকে ‘মৌলিক রাজনৈতিক পুঁজি’র পুরুষতান্ত্রিক প্রতিফলন হিসেবে দেখছে টিআইবি। এছাড়া, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনকে কেন্দ্র করে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং অধ্যাদেশ প্রণয়নে দোদুল্যমানতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতির একপর্যায়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সাম্প্রতিক আঘাতের তীব্র নিন্দা জানান। বিশেষ করে ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের তুলে নেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য মধ্যযুগীয় সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে যথাযথ আইনি পথে না গিয়ে ভীতি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরিশেষে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না করা এবং দুদকের সংস্কারে ব্যর্থতাকে আগামী দিনের জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে টিআইবি।



