― Advertisement ―

“এটা বাংলাদেশ নয়”: বিতর্কিত শ্লোগান নিয়ে পর্তুগালের নির্বাচনে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন ভেনচুরা

পর্তুগালের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ ৪০ বছর পর আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রানঅফ বা দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন সেন্টার-লেফট সোশ্যালিস্ট পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আন্তোনিও হোসে সেগুরো এবং কট্টর ডানপন্থী ‘চেগা’ দলের আলোচিত নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা। গত ১৮ জানুয়ারির প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচনটি এই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালো। বর্তমান জনমত জরিপগুলো বলছে, মধ্যপন্থী সেগুরো প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে ভেনচুরাকে পরাজিত করতে পারেন। তবে হার-জিত যাই হোক না কেন, ভেনচুরার এই রানঅফে উঠে আসাকেই পর্তুগালের রক্ষণশীল রাজনীতির একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এই নির্বাচনের মূল উত্তাপ ছড়িয়েছে ভেনচুরার অভিবাসনবিরোধী প্রচারণা। বিশেষ করে “পর্তুগাল আমাদের” এবং “এটা বাংলাদেশ নয়” এমন শ্লোগান সম্বলিত বিলবোর্ড দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভেনচুরা পর্তুগালের ক্রমবর্ধমান বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতিকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে আগ্রাসী প্রচারণা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তোনিও সেগুরো নিজেকে একজন ‘সংযমী ও সমন্বয়কারী’ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি ভেনচুরার অভিবাসনবিরোধী ও বিভাজনমূলক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে একটি স্থিতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ পর্তুগাল গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট পদটি অনেকটা আনুষ্ঠানিক হলেও সংকটের সময় এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্টের হাতে সংসদ ভেঙে দেওয়ার মতো ‘পারমাণবিক অস্ত্র’ সদৃশ ক্ষমতা রয়েছে। গত তিন বছরে তিনবার সাধারণ নির্বাচন হওয়া এবং সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঝড় ‘লিওনার্দো’র প্রভাবে পর্তুগাল এখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যিনিই জয়ী হোন না কেন, আগামী মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে দেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে দেওয়া। আজ রাত নাগাদ পরিষ্কার হবে, পর্তুগাল কি তার উদারপন্থী ঐতিহ্য ধরে রাখবে নাকি ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ডানপন্থী হাওয়ায় গা ভাসাবে।