আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং ‘দেশ গঠনের নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে নীলফামারী শহরের বড় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাংলাদেশই প্রথম ও শেষ ঠিকানা। তাই দেশ গড়ার এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। বেকারত্ব দূর করতে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডকে আরও বড় করার পাশাপাশি এ অঞ্চলকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও অঙ্গীকার করেন তারেক রহমান।
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান বেশ কিছু নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ ও কীটনাশকের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজে পাবেন। উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে তিনি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মাধ্যমে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক গুরুত্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নাম উল্লেখ না করে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তারেক রহমান ভোটারদের সতর্ক করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দল মানুষকে ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ভোটারকে ভয় দেখালে কিংবা কারো ওপর অন্যায় করা হলে বিএনপি তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় নীলফামারীর চারটি আসনের দলীয় ও জোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।



