― Advertisement ―

এপস্টেইন ফাইল: ‘অতীত ভুলে যান’, দেশবাসীকে ট্রাম্পের আহ্বান

জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার মামলার লাখ লাখ গোপন নথি জনসমক্ষে আসার পর মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলে ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মার্কিন বিচার বিভাগ বিষয়টি নিষ্পত্তির ঘোষণা দিলেও বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে এই বিতর্কিত অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে বিচার বিভাগের এই ‘সুরক্ষামূলক’ অবস্থান নিয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ ও কংগ্রেসের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিচার বিভাগ নতুন করে কাউকে অভিযুক্ত করার মতো জোরালো তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ার কথা জানালেও মার্কিন প্রতিনিধি সভা এই অবস্থান মানতে নারাজ। বিশেষ করে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এই ইস্যুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনকে তলব করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে, অন্যথায় আদালত অবমাননার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করছেন নব্বইয়ের দশকের পর এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটেছিল, কিন্তু নথিতে তাঁর নাম ৬ হাজারেরও বেশিবার আসায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ২০১১ সালে এপস্টেইনের একটি রহস্যময় ইমেল, যেখানে ট্রাম্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল, তা নতুন করে সন্দেহ উসকে দিয়েছে।

এই কেলেঙ্কারির আঁচ শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বিল গেটস ও ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ ধনকুবেরদেরও জনসমক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হয়েছে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এখন সামাজিক ও আইনি চাপের মুখে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নথিতে উঠে আসা উচ্চবিত্ত শ্রেণির এই অন্ধকার অধ্যায় আগামী দিনগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।