জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘ এক যুগের বঞ্চনা এবার প্রকাশ্য বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্থায়ী মন্দিরের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত তারা নির্ধারিত স্থানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন মুক্তমঞ্চের পাশে, যেখানে তারা গত রাতে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, সেখানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সনাতন বিদ্যা সংসদের সাবেক সভাপতি সুমন কুমার দাস।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মূল কারণ প্রশাসনের ‘দ্বিমুখী নীতি’। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে প্রশাসন ‘জায়গা নেই’ বলে দাবি করে এলেও সম্প্রতি ওই একই স্থানে একটি শৌচাগার বা ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ শুরু করে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন—যেখানে মন্দিরের জন্য এক ইঞ্চি জমিও পাওয়া যায় না, সেখানে রাতারাতি টয়লেট নির্মাণের অনুমতি কীভাবে আসে? এই বৈষম্যমূলক আচরণকে তারা ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম অবজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও তা হতে হবে বিদ্যমান অস্থায়ী মন্দিরটিকে বহাল রাখার শর্তে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন যদি কোনো প্রকার উচ্ছেদ অভিযান বা উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে এর দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে কেবল ‘নতুন ক্যাম্পাসে’ মন্দির হবে—এমন রঙিন স্বপ্নের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা এখন ক্যাম্পাসের ভেতরেই তাদের প্রাণের উপাসনালয়ের বাস্তব অস্তিত্ব চান। মঙ্গলবার রাতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা সেখানে পালাক্রমে অবস্থান নিচ্ছেন।



