ভারতের উত্তরাখণ্ডের শান্ত জনপদ কোটদ্বার এখন এক উত্তপ্ত রণক্ষেত্র, যার কেন্দ্রে রয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এক যুবক—দীপক কুমার। গত ২৬ জানুয়ারি যখন একদল উগ্র জনতা পার্কিনসন রোগে আক্রান্ত ৭০ বছর বয়সী মুসলিম দোকানি উকিল আহমেদকে হেনস্তা করছিল, তখন দীপক একাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মব যখন ওই বৃদ্ধকে তাঁর দোকানের নাম থেকে ‘বাবা’ শব্দটি মুছে ফেলতে বাধ্য করছিল, তখন দীপক গর্জে উঠে বলেছিলেন, ‘আমার নাম মোহাম্মদ দীপক’। প্রতিবাদের এই অভিনব ভাষা ও সাহসিকতার ভিডিও ভাইরাল হতেই তিনি যেমন সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি পড়েছেন কট্টরপন্থীদের রোষানলে।
বর্তমানে দীপকের জীবন কাটছে কড়া পুলিশি পাহারায়। তাঁর জিম ও বাসভবনে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে কারণ বজরং দলের মতো গোষ্ঠীগুলো তাঁর বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুলিশ যেমন বজরং দলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তেমনি দীপক ও তাঁর বন্ধুর বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করেছে। এই দ্বিচারিতা নিয়ে ভারতজুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। তবে দীপক অবিচল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘ধর্মের কারণে আক্রান্ত এক বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানো ছিল মানবিক কাজ, এর জন্য আমার কোনো অনুশোচনা নেই।’
এই ঘটনা এখন উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিতে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একে সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখলেও ক্ষমতাসীন বিজেপি একে ‘পূর্ব পরিকল্পিত নাটক’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। বিজেপি যখন শান্তি নষ্টের জন্য কংগ্রেসকে দুষছে, কংগ্রেস তখন পাল্টা প্রশ্ন তুলছে—কেন আক্রান্তের বদলে রক্ষাকারীর বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হলো? রাজনীতির এই দড়ি টানাটানির মাঝে দীপক কুমার হয়ে উঠেছেন বর্তমান ভারতের এক বিরল মানবিক আলোকবর্তিকা।



