নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্কের ফাটল ততই দৃশ্যমান হচ্ছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর ইসিবি চত্বরে এক গণসংযোগকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার কোনো অবকাশ নেই। ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমানের পক্ষে প্রচারণায় নেমে তিনি বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিমভাবে জামায়াতকে বিএনপির সমান্তরালে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে জামায়াত এখনো সেই অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
সালাম জামায়াতকে ‘পরীক্ষিত বেইমান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের অতীত রাজনীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে তারা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে, আবার একাত্তরে বাংলাদেশের জন্মের সময় সাধারণ মানুষের ওপর অস্ত্র ধরেছে। বর্তমানে জামায়াত নেতাদের রাজনৈতিক ‘অস্থিরতা’ তাদের আসন্ন পতনের লক্ষণ বলেও তিনি দাবি করেন। বিশেষ করে ঢাকা সেনানিবাসে সেনা সদস্যদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর বাগবিতণ্ডার ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দলটির পাকিস্তানপন্থী আসল চেহারা আবারও উন্মোচিত হয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবদুস সালাম তারেক রহমানকে ‘পুরো বাংলাদেশের নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাঁকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বা ফিলিস্তিনের মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চায়। নারীদের অধিকার নিয়ে জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্ধেক ভোটার নারী হওয়া সত্ত্বেও জামায়াত কোনো আসনে নারী প্রার্থী দেয়নি। পরিশেষে, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে তিনি সাধারণ ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।



