দীর্ঘ ১৮ বছরের রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন। জেন-জি বিপ্লবের পর এটিই হবে দেশের প্রথম প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরীক্ষা। এই নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত মুখ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দ্য ইকোনমিস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাজধানী থেকে ময়মনসিংহের দীর্ঘ যাত্রাপথে বুলেটপ্রুফ বাসে তাঁর বর্ণাঢ্য প্রচারণা এবং সাধারণ মানুষের উন্মাদনা বলে দিচ্ছে, আগামী দিনের রাষ্ট্রক্ষমতার দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে আছেন। তবে এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদল নয়, বরং একটি ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে পুনরায় ট্র্যাকে ফেরানোর কঠিন চ্যালেঞ্জও বটে।
ইকোনমিস্ট বলছে, বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ ভোটার জীবনে কখনও সত্যিকারের ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচন তদারকি করা হচ্ছে। সরকারের সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করা এবং উচ্চকক্ষ গঠনের মতো বিষয়গুলো এবারের নির্বাচনে ভোটারদের রায়ের ওপর নির্ভর করছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় মাঠ এখন মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দখলে। যদিও জামায়াতের উত্থান শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছে, বিশেষ করে নারী অধিকার ও শাসন অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তারেক রহমান তাঁর লন্ডনের ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এক ‘নতুন ইমেজ’ নিয়ে হাজির হয়েছেন। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তিনি সেগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও বাস্তববাদী। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজ ও উদারপন্থিদের একাংশ তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।



