― Advertisement ―

বরফ গলছে ওয়াশিংটন-কারাকাস সম্পর্কের;ভেনেজুয়েলায় ট্রানজিশন না কি দফারফা?

ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এক ঐতিহাসিক মোড় দেখা দিয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্রাসাদে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদরিগেজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক লরা ডোগু। দীর্ঘ সাত বছর পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এই সরাসরি বৈঠককে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যকার বরফ গলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বৈঠকের পর লরা ডোগু এক বার্তায় জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ‘ট্রানজিশন’ বা ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।

এই বৈঠকের সমান্তরালে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদরিগেজ তাঁর প্রশাসনে কিছু চমকপ্রদ নিয়োগ দিয়েছেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিক্স প্লাসেঞ্চিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক মিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে মাদুরো সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর এটিই প্রথম বড় কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ। এছাড়া প্রভাবশালী নেতা দিওসদাদো কাবেল্লোর কন্যা দানিয়ালা কাবেল্লোকে পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রদরিগেজ তাঁর সরকারে অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। রদরিগেজ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

তবে এই আলোচনাকে খুব একটা সহজভাবে দেখছেন না বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। তিনি ট্রানজিশনের সময়সূচি নির্ধারণে রদরিগেজের সঙ্গে বসতে রাজি হলেও বর্তমান সরকারকে ‘মাফিয়া’ ও ‘মাদুরো আমলেরই অংশ’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন। মাচাদোর মতে, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংস্কার ছাড়া এই ধরনের বৈঠক কেবল মাদুরো উত্তর কাঠামোকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই প্রক্রিয়াকে একটি ‘স্থিতিশীল ভেনেজুয়েলা’ গড়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন। ক্ষমতার এই দড়ি টানাটানির মাঝে সাধারণ ভেনেজুয়েলানরা এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের দিকে।