― Advertisement ―

২৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের প্রতারণা ও ৬ হত্যা; ৪ অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

টেলিকম প্রতারণা ও অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের জীবন ধ্বংসকারী এক আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিয়েছে চীন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দেশটির শেনঝেন ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট এক ঘোষণায় জানায়, মিয়ানমারভিত্তিক একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্রের আরও চার সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই চক্রটি কেবল অর্থ আত্মসাৎ নয়, বরং অন্তত ছয়জন চীনা নাগরিকের মৃত্যুর জন্যও সরাসরি দায়ী। তাদের প্রতারণার জাল এতই বিস্তৃত ছিল যে, তারা প্রায় ২৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা ৪.২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, চীন-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কোকাং অঞ্চলে এই চক্রটি বিশাল ‘স্ক্যাম পার্ক’ বা শিল্প পার্ক স্থাপন করেছিল। সেখান থেকেই তারা বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল প্রতারণা চালাত। তবে তাদের অপরাধ কেবল আর্থিক জালিয়াতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, জোরপূর্বক দেহব্যবসা এবং বড় আকারের মাদক উৎপাদনের মতো নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। আদালত এই অপরাধীদের কর্মকাণ্ডকে ‘সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি’ এবং ‘অত্যন্ত নৃশংস’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

উচ্চ আদালতে আপিল করা হলেও গত বছরের নভেম্বরে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়। কুখ্যাত ‘বাই পরিবার’-এর নেতৃত্বাধীন এই চক্রের প্রধান বাই সুওচেং বিচার চলাকালীন অসুস্থতায় মারা গেলেও তার সহযোগীদের রেহাই দেয়নি বেইজিং। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে ওঠা এসব অনলাইন স্ক্যাম ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে চীন। বিশেষ করে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে পাচার হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে করানো এই আধুনিক দাসত্ব ও ডিজিটাল অপরাধ দমনে চীনের এই কঠোর পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে এক শক্তিশালী বার্তা প্রদান করল।