― Advertisement ―

পাল্টা চালে ইরান: ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকেই ঘোষণা করল ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’

ইরান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন এক চরম সংকটের মুখোমুখি। তেহরানে নিযুক্ত ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সব রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের বিশেষ বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করার প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই একে ইরানের পক্ষ থেকে ‘প্রাথমিক ও ক্ষুদ্রতম’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে বড় ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এই কূটনৈতিক লড়াইয়ের শুরু গত বৃহস্পতিবার, যখন বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগে আইআরজিসি-কে কালো তালিকাভুক্ত করে ইউরোপ। এর তাৎক্ষণিক জবাবে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ একটি বিতর্কিত ঘোষণা দেন। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে গণ্য করার কথা জানান। বিশেষ এই সংসদ অধিবেশনে সংহতি জানাতে তিনি নিজেই বিপ্লবী গার্ডদের ইউনিফর্ম পরে উপস্থিত হন এবং ইউরোপের এই সিদ্ধান্তকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ বলে সতর্ক করেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় ইউরোপের এই কৌশলকে ‘কৌশলগত ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যেখানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে চেষ্টা করছে, সেখানে ইউরোপের এমন উস্কানিমূলক সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর গঠিত এই অভিজাত বাহিনীটি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া একে নিষিদ্ধ করেছে। এখন ইইউ-এর এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাজ্যের ওপরও আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করার চাপ বাড়ছে, যা তেহরান ও পশ্চিমের মধ্যকার সম্পর্কের ফাটলকে আরও প্রশস্ত করছে।