দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর খুলনার মাটিতে পা রেখে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে খুলনা নগরের খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। জনসভায় তারেক রহমান বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা নারী সমাজকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখতে চায়। সম্প্রতি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে ওই দলের একজন নেতার মন্তব্যকে তিনি ‘কলঙ্কজনক’ এবং ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে কারো নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি দলের নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে মা-বোনেরা জীবিকার তাগিদে বাইরে কাজ করেন, তাদের সম্পর্কে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা উচ্চারণ করতেও লজ্জা হয়। এই ধরনের মানসিকতা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথে বড় বাধা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই প্রভাতী স্কুল মাঠে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বেলা সাড়ে ১২টায় তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে স্লোগান আর করতালিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রায় ২৭ মিনিটের বক্তব্যে তিনি খুলনার মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা স্মরণ করেন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এই জনসভাকে ঘিরে খুলনা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।



