― Advertisement ―

এপস্টেইন ফাইলের বিষে নীল ম্যান্ডেলসন; ছাড়লেন লেবার পার্টির সদস্যপদ

জেফ্রি এপস্টেইনের সেই অভিশপ্ত নথির আঁচ এবার সরাসরি ব্রিটিশ রাজনীতির অন্দরমহলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নতুন নথিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আসার পরপরই ব্রিটেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও প্রভাবশালী নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। ৭২ বছর বয়সী এই ঝানু রাজনীতিক রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দলের সাধারণ সম্পাদককে লেখা চিঠিতে জানান, তিনি চান না তার কারণে লেবার পার্টি আর কোনো ‘বিব্রতকর পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হোক। ২০২৫ সালে একই কারণে রাষ্ট্রদূতের পদ হারানোর পর এবার দলীয় সদস্যপদ হারানো ম্যান্ডেলসনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে খাদের কিনারে ঠেলে দিল।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নথিতে দাবি করা হয়েছে, ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ম্যান্ডেলসনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৭৫ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন। শুধু তাই নয়, ম্যান্ডেলসনের সঙ্গী রেইনালদো আভিলা দা সিলভাকেও ২০০৯ সালে ১০ হাজার পাউন্ড পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে, যখন ম্যান্ডেলসন ব্রিটিশ সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। তবে ম্যান্ডেলসন এই লেনদেনের কথা অস্বীকার করেছেন। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০ বছর আগের এই ঘটনার কোনো স্মৃতি বা নথি তার কাছে নেই এবং তিনি নিজেই এর সত্যতা তদন্ত করতে চান।

তবে কেবল অর্থ নয়, নথিতে থাকা কিছু অপ্রকাশিত ছবি ম্যান্ডেলসনকে আরও বেশি কোণঠাসা করে ফেলেছে। ছবিতে তাকে অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় এক রহস্যময়ী নারীর পাশে দেখা যায়। যদিও ম্যান্ডেলসন দাবি করেছেন তিনি সেই সময় বা স্থান মনে করতে পারছেন না, কিন্তু জনমনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাপক। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার তাকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়ে আগেই সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এবার নতুন অভিযোগ এবং প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের নয়া তথ্য বেরিয়ে আসার পর লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।