ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি খাতের একচ্ছত্র অধিপতি এবং ‘গ্যাসোলিন গডফাদার’ খ্যাত মোহাম্মদ রিজা চালিদকে ধরতে এবার মাঠে নেমেছে ইন্টারপোল। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি ‘পার্টামিনা’ (Pertamina)-তে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা) আকাশচুম্বী দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছে। ৬৬ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইন্টারপোলের ১৯৬টি সদস্য রাষ্ট্রকে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের (AGO) তথ্যমতে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রিজা চালিদ ও তার সহযোগীরা পার্টামিনায় একটি ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। তারা আইনগত বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে দেশীয় উৎস থেকে তেল সংগ্রহের পরিবর্তে বিদেশ থেকে অত্যধিক দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি করতেন, যার বিনিময়ে বিশাল অংকের টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হতো। এই জালিয়াতির অভিযোগে রিজার ছেলে মুহাম্মদ কেরি আদ্রিয়ান্টোসহ অন্তত ১৮ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্দোনেশীয় অভিবাসন দপ্তর ইতিমধ্যে তার পাসপোর্ট বাতিল করেছে, যাতে তিনি কোনোভাবেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে বৈধভাবে ভ্রমণ করতে না পারেন।
বর্তমানে রিজা চালিদ ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছেন তা প্রকাশ না করলেও ইন্টারপোল ইন্দোনেশিয়ার এনসিবি (NCB) জানিয়েছে, তার সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। তিনি বর্তমানে একটি ইন্টারপোল সদস্য রাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন এবং সেখানে তাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এই দুর্নীতি মামলার বিচার নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের মতো জাকার্তাও যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে, রিজা চালিদের বিরুদ্ধে এই বৈশ্বিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তারই এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।



