― Advertisement ―

চীনের ক্ষমতাধর মন্ত্রীর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত; কাঁপছে প্রশাসনিক মহল

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযানের জোরালো ধাক্কা এবার লেগেছে জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে। দেশটির প্রভাবশালী মন্ত্রী ওয়াং শিয়াংসি-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে চীনের শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ‘সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশন’ (CCDI)। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সংস্থাটির এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানানো হয়, ৬৩ বছর বয়সী এই নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যদিও তদন্তের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো এখনো গোপন রাখা হয়েছে, তবে চীনে সাধারণত ‘গুরুতর শৃঙ্খলা লঙ্ঘন’ বলতে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতিকেই বোঝানো হয়ে থাকে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার গত এক দশকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে আপসহীন অবস্থান, ওয়াং শিয়াংসি-র বিরুদ্ধে এই তদন্ত তারই একটি ধারাবাহিক অংশ। বিশেষ করে দায়িত্ব পালনরত কোনো পূর্ণ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্তের ঘোষণা চীনে বেশ বিরল এবং এটি প্রশাসনিক মহলে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর থেকে দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে পরাজয়ের কোনো সুযোগ নেই। এই অভিযানের লক্ষ্য কেবল সরকারি আমলা নয়, বরং সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রায়ত্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা।

ওয়াং শিয়াংসি ২০২২ সালের জুলাই মাসে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার আগে দেশটির বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন’-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। মজার বিষয় হলো, তদন্তের ঘোষণা আসার কয়েক দিন আগেও তিনি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বৈঠকে কর্মকর্তাদের আত্মসমালোচনা ও কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। একই সাথে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক পার্টি সেক্রেটারি সুন শাওচেং-এর বিরুদ্ধেও তদন্তের খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে চীনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় এক ধরনের স্নায়বিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, কারণ কার পর কার নাম তালিকায় আসবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নয়।