মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাটামি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির বিপরীতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থানে রয়েছে। শত্রু পক্ষ যদি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানার কোনো ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নেয়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ—যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হাটামি বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি এখন আর কেবল কিছু নথিপত্র বা স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন জাতির মেধা ও বিজ্ঞানে পরিণত হয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞানকে কখনোই নির্মূল করা সম্ভব নয়, এমনকি আমাদের বিজ্ঞানীরা শহীদ হলেও এই প্রযুক্তি টিকে থাকবে।” তার এই মন্তব্য মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সেই বক্তব্যের জবাব, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে সামরিক হামলা এড়াতে ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে সই করবে।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইরান একে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে এবং এরই প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাপ্রধানের এই সরাসরি সামরিক হুমকি এবং ‘শহীদ হওয়ার’ অঙ্গীকার তেহরানের অনড় অবস্থানেরই প্রতিফলন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।



