― Advertisement ―

সন্ত্রাসী তালিকায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তকে “রাজনৈতিক নাটক” বললো তেহরান

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নজিরবিহীন প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের জেরে দেশটির অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-কে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে এই ঐতিহাসিক ঘোষণার সময় ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ এই নৃশংস দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায় চুপ থাকতে পারে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইআরজিসি এখন আন্তর্জাতিকভাবে আল-কায়েদা বা আইএসের মতো চরমপন্থী সংগঠনের সমপর্যায়ে বিবেচিত হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী চরম সহিংসতা চালিয়েছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো একে ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘকাল কূটনৈতিক জটিলতার আশঙ্কায় ফ্রান্স এই পদক্ষেপে পিছিয়ে থাকলেও অবশেষে ইতালির নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবে তারা সম্মতি দিয়েছে।

সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রসিকিউটর জেনারেলসহ ১৫ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ৬টি সংস্থার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইইউ। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাদের সম্পদ জব্দ এবং ইউরোপে ভ্রমণের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ইইউ মনে করে, এই কর্মকর্তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর নির্বিচার গ্রেপ্তার ও নিপীড়নের জন্য সরাসরি দায়ী।

তবে তেহরান এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ইউরোপের একটি ‘গুরুতর কৌশলগত ভুল’ বলে সতর্ক করেছেন। প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সক্রিয় সদস্যের এই বিশাল বাহিনী একদিকে যেমন ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি, অন্যদিকে দেশের বাইরেও বিভিন্ন মিত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিতের মধ্যেই ইইউর এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।