গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতিকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর কূটনৈতিক চাপ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাকি থাকা জিম্মিদের মরদেহের প্রত্যাবাসন এবং গাজার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণই এখন মার্কিন প্রতিনিধিদের মূল লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের এই তৎপরতা গাজায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনার একটি বড় চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানো নিয়ে এখনো গভীর অনিশ্চয়তা কাটেনি। ইসরায়েল সরকারের ভেতর থেকে চাপ রয়েছে যে, হামাসের পক্ষ থেকে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধাপের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করা। গাজার সম্ভাব্য টেকনোক্র্যাটিক সরকারের প্রধান আলি শাথ আগামী সপ্তাহেই এই সীমান্ত খুলে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ইসরায়েল এখনো এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি। বর্তমানে রাফাহর নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি সেনাদের হাতে থাকায় এই সীমান্ত খুলে দেওয়ার বিষয়টি মূলত তেল আবিবের মর্জির ওপর ঝুলে আছে।
যুদ্ধবিরতির এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই গাজায় সহিংসতা ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। শনিবারও ইসরায়েলি হামলায় দুই কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। একদিকে জিম্মি পরিবারের সদস্যদের ক্ষোভ এবং অন্যদিকে গাজার মানবিক সংকট—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মিসরসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাফাহ সীমান্ত খুলে দিয়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার তাগিদ দিচ্ছে। এই জটিল সমীকরণ মেলাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে।



