― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বহুবারের উদ্যোগেও কমেনি সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির প্রবণতা

দেশ স্বাধীন হয়েছে গত ৫৫ বছর আগে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য অন্তত ২০ বার উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে সংস্কার কমিশন ও টাস্কফোর্স। এরপরেও রাষ্ট্রের বা সরকারের সরাসরি রাজস্ব খাত থেকে বেতনভোগী এসব চাকুরিজীবীদের দুর্নীতির প্রবণতা একটুও কমেনি, বরং বেড়েছে।

সর্বশেষ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। সেই কমিশন ২০৮টি সুপারিশসহ সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করে। তবে সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এর মধ্যে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এমন ১৮টি সুপারিশ চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে তার মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত সহজ ও বাস্তবায়নযোগ্য ৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র তিনটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সংস্কারের জন্য বিভিন্ন আমলে গঠিত কমিটিগুলোর সুপারিশের বড় অংশ বাস্তবায়ন না হলেও বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়মিতভাবেই হয়েছে। কিন্তু বেশি টাকা বেতন পেয়েও সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির প্রবণতা একটুও কমেনি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেতন বা সুজোগ সুবিধা বাড়ানোর সঙ্গে দুর্নীতি কমার সরাসরি সম্পর্ক নেই। ২০১৩ সালে গঠিত বেতন কমিশনের সুপারিশে ২০১৫ সালে যখন নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়, তখন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ২০০৯ সালের স্কেল থেকে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সে সময় বলা হয়েছিল এবার বেতন অনেক বেড়েছে ফলে দুর্নীতি কমে আসবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের তালিকা লম্বা হয়েছে। অনেক সরকারি কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে সেই তালিকায়।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে ১৫৩টি দুর্নীতির মামলায় ৪৭৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৪ জন ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। ২০২৪ সালে দুদক ৩৪৬ জন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠন করা অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনেও সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে ঘুসের টাকার মধ্যে ৭৭ হাজার থেকে ৯৮ হাজার কোটি টাকা গেছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পকেটে।

শ্বেতপত্রে আরো বলা হয়, টাকা পাচারের জন্য দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলাদের মধ্যে একধরনের অনৈতিক চক্র গড়ে ওঠে। কমিটি তিন মাসের অনুসন্ধান শেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।

সিভিল সার্ভিস সংস্কারে উদ্যোগ ও বেতন বৃদ্ধি করার পরও কেন সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রোধ করা যায়নি এমন প্রশ্নের খোলাখুলি জবাব দিয়েছেন সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘বেতন যতই বাড়ানো হোক, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে যদি যথাস্থানে নিয়োগ দেয়া না হয় এবং কার্যকর তদারকি না থাকে, তাহলে দুর্নীতি কমবে না। অতীতেও শুধু বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর কোনো সফল উদাহরণ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্নীতি কমাতে হলে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে নিয়োগ। নিয়োগের পর পদায়ন ও পদোন্নতিতেও একই মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। এর পাশাপাশি থাকতে হবে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি।’

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। সংস্কারের কথা বললে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সংস্কার কার্যক্রম হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা যাতে দুর্নীতি করতে না পারেন, তার জন্য অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্নীতি রোধে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০২৫ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিগত দেড় বছরে এমন অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।’

সূত্র: বণিক বার্তা