ইরানের ভেতরে চলমান অস্থিরতা দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় বৈশ্বিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল (UNHRC) সম্প্রতি জেনেভায় এক বিশেষ সভার আয়োজন করে, যেখানে ইরানের নজিরবিহীন সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করা হয়। ৪৭ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ২৫টি দেশের সমর্থনে একটি নতুন প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটিতে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনা সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা। এই সিদ্ধান্তের ফলে তেহরান প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত সংগৃহীত প্রমাণাদির ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই এই তদন্তের মূল লক্ষ্য।
আইসল্যান্ডের প্রতিনিধি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করার সময় স্পষ্টভাবে জানান যে, ভীতি প্রদর্শন কিংবা আইনি ছাড় ব্যবহার করে কোনো রাষ্ট্র তার নিজ জনগণের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারে না। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে নিযুক্ত বিশেষ র্যাপোর্টিয়রের মেয়াদ আরও এক বছর এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের কার্যকাল দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। মূলত তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা জনবিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে কাজ করবে এই মিশন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক অভিযোগ করেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে, যার ফলে শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
অন্যদিকে, তেহরান প্রশাসন পুরো বিষয়টিকে একটি ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারকে ইস্যু করে ইরানের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। চীন ও কিউবার মতো মিত্র দেশগুলোও ইরানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়ে এই তদন্তকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে। যদিও দেশটিতে ইন্টারনেটের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আশঙ্কা করছে যে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ অবিলম্বে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে।



