রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত সুনিবিড় হাউজিং ও জেনেভা ক্যাম্পে সেনাবাহিনী এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ছয়জন চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, নগদ অর্থ এবং নজরদারি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড ও মোহাম্মদপুরের বছিলা সেনা ক্যাম্পের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী আভিযানিক দল এই অভিযানে অংশ নেয়।
আভিযানিক সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী জানতে পারে যে মোহাম্মদপুরের সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় একদল মাদক কারবারি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছে এবং সেখানে মাদক লেনদেনের পরিকল্পনা চলছে। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে রাত ঠিক ১টার দিকে আভিযানিক দলটি সুনিবিড় হাউজিংয়ে হানা দেয়। সেখান থেকে হাতেনাতে আটক করা হয় মাহবুব (৩৮), সুমন (৩৮), রাসেল (২৯), মোমিন (৩১), সাইদুল (২৭) ও মুকুল (৩৫) নামের ছয় ব্যক্তিকে। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ৩০টি ইয়াবা বড়ি, ৩৯টি মোবাইল সিম কার্ড এবং সন্ত্রাস ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত দুটি বড় ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক কারবার, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক অপরাধের রেকর্ড ও মামলা রয়েছে।
সুনিবিড় হাউজিংয়ের এই সফল অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৪টার দিকে সেনাবাহিনী দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় জেনেভা ক্যাম্প এলাকায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ধুর্ত মাদক কারবারিরা কৌশলে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাসার ছাদ দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পালিয়ে গেলেও তাদের ব্যবহৃত আস্তানাগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালায় সেনাদল। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১০ হাজার ইয়াবা বড়ি, ৬০০ গ্রাম গাঁজা, ২৩০ পুরিয়া হেরোইন এবং এক বোতল বিদেশি মদ। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা, মাদক মাপার ডিজিটাল যন্ত্র এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত পাঁচটি সিসিটিভি ক্যামেরাও জব্দ করা হয়।


