যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত ঠেকাতে চলতি সপ্তাহে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে চারটি আরব দেশ—সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিসর। এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জানান, আপাতত ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ইরানে হত্যাকাণ্ডের মাত্রা কমছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
চারটি দেশ ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে জানায়, ইরানে কোনো সামরিক হামলা হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও গুরুতর প্রভাব ফেলবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পড়তে পারে।
একই সঙ্গে ইরানকে বার্তা দিয়ে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় কোনো পাল্টা হামলা চালানো হলে তা তেহরানের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য ছিল উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য কমানো এবং এমন কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো, যা পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথও খুলে দিতে পারে
।এ বিষয়ে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক মিডিয়া অফিস, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ওমানের তথ্য মন্ত্রণালয় ও মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি, যদিও দেশটি এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ ছিল না।
এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে পাল্টা জবাবে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ওমান ও কাতার দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব ও মিসরের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনপূর্ণ থাকলেও ২০২৩ সালে সৌদি-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
সূত্র: রয়টার্স



