মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরের বিরোধীদলীয় নেতা (Leader of the Opposition) পদ হারালেন প্রীতম সিং। বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটির পর প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই সম্মানজনক উপাধি ও পদমর্যাদা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির (PAP) সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রস্তাবটি সহজেই পাস হয়, যদিও বিরোধী শিবিরের ১১ জন সদস্য এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
প্রীতম সিং পদটি হারালেও তার সংসদ সদস্য পদ এবং প্রধান বিরোধী দল ‘ওয়ার্কার্স পার্টি’র (WP) মহাসচিবের দায়িত্ব বর্তমানে বহাল রয়েছে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রাপ্য অতিরিক্ত বেতন, বিশেষ প্রোটোকল এবং সংসদে বিতর্কের সময় অগ্রাধিকারের সুযোগগুলো তিনি আর ভোগ করতে পারবেন না। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালতের রায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ডিসেম্বরে আপিলেও সেই দণ্ড বহাল থাকে।
বিতর্ক চলাকালে সংসদের নেতা ইন্দ্রানি রাজাহ বলেন, মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে প্রীতম সিং সংসদের মর্যাদা ও জনআস্থা ক্ষুণ্ণ করেছেন। বিপরীতে প্রীতম সিং দাবি করেছেন, তার ‘বিবেক পরিষ্কার’ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হলেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে জনসেবা চালিয়ে যাবেন। এই দণ্ডাদেশের পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি সামাজিক মাধ্যমে হ্যাসট্যাগ দিয়ে লিখেছেন— “#WeContinue”।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে, যখন তার দলের তৎকালীন সংসদ সদস্য রাইসাহ খান সংসদে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। তদন্ত কমিটির কাছে রাইসাহ দাবি করেছিলেন যে, প্রীতম সিং তাকে ওই মিথ্যা কথা চালিয়ে যেতে বলেছিলেন। প্রীতম সিং এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও আদালত তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। সিঙ্গাপুরের ইতিহাসে প্রথম আনুষ্ঠানিক বিরোধীদলীয় নেতার এই পতন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



