― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

নির্বাচনের আগেই পোস্টাল ভোট নিয়ে বিতর্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ভোটের আগেই নতুন এ ভোট ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে গিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে দলটি।

জানা যায়, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কয়েক ব্যক্তির কাছে অনেক ব্যালট পেপার দেখা গেছে। এ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা পোস্টাল ভোট কারচুপি করতে চায়, তারা বাহরাইন ছাড়াও আরো অনেক দেশ থেকে এ নিয়ে কাজ করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, সেই আসনগুলোতে পোস্টাল ভোট নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনের একটি বাসায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক পোস্টাল ব্যালট কয়েকজন মিলে গুনছেন। পোস্টাল ব্যালটের খামেও লেখা রয়েছে বাহরাইনের ঠিকানা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোস্টাল ব্যালটের জন্য ১০ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন– এমন আসন রয়েছে ১৮টি। যেসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়, সেই আসনগুলোয় এই ভোট ফল নির্ণায়ক হতে পারে।

দেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা অনেক আগে থেকে চালু থাকলেও প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অতীতে এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে ভোটারদের মধ্যে তেমন কোন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দিরা এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারেন।

আগে আইন থাকলেও সীমিত সুযোগ ছিল পোস্টাল ভোটে। এবার ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ইসি। এ জন্য নির্বাচনী আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন শেষ হয়।

ইসি সূত্র বলছে, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস (সিরিয়াল) নিয়ে ‘কৌশলগত পক্ষপাতিত্বে’র অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এ নিয়ে গত কয়েক দিন সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে গতকাল।

বাহরাইনে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট একটি দলের নেতার মাধ্যমে ‘হ্যান্ডেলের’ অভিযোগ তুলে ধরে বিএনপি আরও বলেছে, ইসিকে দ্রুতই এই ব্যালট সংশোধন করতে হবে। দেশে এসব পোস্টাল ব্যালট যেন ব্যবহার না করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল অভিযোগ করেছে, পোস্টাল ব্যালটে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা ভোটার হয়েছেন। তাদের কাছে পাঠানো ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি দলের প্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট পেপারে পাঁচটি কলাম ও ১৪টি সারি রাখা হয়েছে। এতে তিনটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে এসেছে। অথচ বিএনপির প্রতীকটি মাঝখানে এমনভাবে রাখা হয়েছে যে কাগজ ভাঁজ করলে সেটা ভালো করে নজরেই পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘ইসি যদি পাঁচটা না করে ছয়টা কলাম করত বা ১৪টির জায়গায় ১২টি বা ১৬টি সারি করতে, তাহলে এই বিন্যাস হতো না। কাজেই এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলেই আমরা মনে করি।’

তবে ইসি কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, প্রতীক বিন্যাসের বিষয়টি আলফাবেটিক্যালি বা প্রতীকের নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী করা হয়েছে। এর পরও বিএনপি নেতারা এটিকে ‘কৌশলগত পক্ষপাত’ বলেছেন।

এ বিষয়ে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নিজেই এক অনুষ্ঠানে পোস্টাল ব্যালটের কিছু চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বৈশ্বিকভাবে পোস্টাল ব্যালটের ওয়েস্টেজ বা নষ্ট হওয়ার হার ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ পোস্টাল ভোটের প্রায় চার ভাগের একভাগ ব্যালট গন্তব্যে পৌঁছায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি গণমাধ্যমে বলেন, যেসব আসনে পোস্টাল ভোট ১০ হাজার বা তার বেশি, সেখানে এই ভোট ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে এই ১০ হাজার ভোটের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যদি একজন প্রার্থী পান, তাহলে তা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসির আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্প প্রধান সালীম আহমাদ খান বলেছেন, ‘আগে হাতে পাওয়া এই ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের দায়িত্ব। কেউ গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হতে পারে।’