― Advertisement ―

ইরানে এরফানের দ্রুত মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে আটককৃত সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তেহরানকে “চরম পরিণতি” ভোগ করতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইরানি বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নে দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান সরকার যদি ফাঁসি কার্যকরের পথে হাঁটে, তবে ওয়াশিংটন অত্যন্ত কঠোর ও প্রভাবশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিশেষ করে ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামের এক তরুণের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই দিনের বিচারিক কার্যক্রমে এই রায় দেওয়াকে নজিরবিহীন ও আতঙ্ক ছড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

সংস্থাগুলোর মতে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই আন্দোলনকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ২ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইরানি কর্মকর্তাদের বড় মূল্য দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্থগিত ঘোষণা করেছেন।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর বর্তমান এই গণবিক্ষোভকে ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ৩১টি প্রদেশের ১৮০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে লাশের সারি দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানকে এই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানালেও তেহরান বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।