বিগত ৪৬ বছরে ইরান রাষ্ট্রটি একের পর এক রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভয়াবহ যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক অবরোধের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের অবসানের পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক চরম বৈরিতায় রূপ নেয়। বর্তমানে দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন সেই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতারই একটি নতুন অধ্যায়।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিপ্লবের পর পরই মার্কিন দূতাবাস অবরোধ ও জিম্মি সংকট ইরানের ওপর প্রথম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার খড়গ নামিয়ে আনে। এরপর ১৯৮০-র দশকে ইরাকের সাথে আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরানকে বিপুল প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। ১৯৯০-এর দশকের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প থেকে শুরু করে পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী স্নায়ুযুদ্ধ—প্রতিটি ঘটনাই ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের “অ্যাক্সিস অফ ইভিল” তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) শান্তির আশা জাগালেও ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা প্রস্থান পরিস্থিতিকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক ছায়া যুদ্ধ থেকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যাকাণ্ড, ইসরায়েলের সাথে সরাসরি ১২ দিনের যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির আকস্মিক মৃত্যু ইরানকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমানে একদিকে অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভ এবং অন্যদিকে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ—এই দুইয়ের চাপে ইরানের শাসনব্যবস্থা এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন।



