২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মাসব্যাপী পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে তারা প্রায় ১৫৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ পণ্য, মাদক এবং অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই অভিযানগুলো দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে পরিচালিত হয়েছে।
জব্দকৃত পণ্যের তালিকায় সবচেয়ে মূল্যবান হিসেবে ছিল ২ কেজির বেশি স্বর্ণ। এছাড়া বস্ত্র ও কসমেটিক্স খাতের অবৈধ মালামালের একটি বিশাল চালান আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে শাড়ি, তৈরি পোশাক এবং কয়েক লাখ কসমেটিক্স সামগ্রী রয়েছে। গৃহস্থালি পণ্য ও খাদ্যের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ কেজির বেশি পেঁয়াজ, বিপুল পরিমাণ চিনি, রসুন ও জিরা। চোরাকারবারিরা যাতায়াতের জন্য যেসব যানবাহন ব্যবহার করছিল, তার মধ্যে ট্রাক, পিকআপ, নৌকা ও মোটরসাইকেলসহ শতাধিক যান জব্দ করা হয়েছে।
অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও বিজিবি সতর্ক অবস্থান দেখিয়েছে। অভিযানে ১২টি পিস্তল, গ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ৯ লাখেরও বেশি ইয়াবা, ৭ কেজির বেশি ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদ ও গাঁজা জব্দ করা হয়।
সীমান্ত নিরাপত্তার এই অভিযানে শুধু পণ্যই নয়, জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চোরাচালানে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় ৪২৫ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশী ছাড়াও ভারতীয় ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছে। বিজিবির এই ব্যাপক তৎপরতা সীমান্তে অপরাধ দমনে বাহিনীর কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।



