― Advertisement ―

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের পাল্টা জবাব

ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় “অত্যন্ত শক্তিশালী” সামরিক পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই গণবিক্ষোভ এখন খোদ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে, পরিস্থিতি বেগতিক হলে যুক্তরাষ্ট্র কেবল পর্যবেক্ষক হয়ে থাকবে না, বরং প্রয়োজনে সরাসরি পদক্ষেপ নেবে। রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনাগুলো চূড়ান্ত করছে। ট্রাম্পের মতে, ইরানি প্রশাসন আলোচনার আগ্রহ দেখালেও ওয়াশিংটন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব পথ খোলা রাখতে চায়।

এদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও দেশটিতে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরানও। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনকে যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তেহরান এই বিক্ষোভকে পশ্চিমা দেশগুলোর গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে পাল্টা সরকারপন্থী মিছিলের ডাক দিয়েছে। এই ত্রিমুখী উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।