― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

শতাধিক দরিদ্রের নামে হাজার কোটি টাকার ঋণ, সুবিধাভোগী মন্ত্রী

জালিয়াতির মা্ধ্যমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চট্টগ্রামের পাঁচটি শাখা থেকে ১০২ জন হতদরিদ্রের নামে ৯৬৩ কোটি টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। এই ১০২ জনের কেউ দিনমজুর, ভ্যানচালক, কেউ আবার কৃষক।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে ১৩ জন ঋণগ্রস্তের বাড়ি যান অনুন্ধানকারীরা। ওই ১৩ জনের সবার গল্পই প্রায় একই ধরণের। সাহায্য দেওয়ার কথা বলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের নামে ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে।

এখন তাদের নামে কোটি কোটি টাকা ঋণের নোটিশ আসছে বাড়িতেক। কিন্তু তারা কেউ এই ঋণ নেননি বা ঋণের কোনো সুবিধা ভোগ করেননি বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া, আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন কর্মচারীকে ব্যবসায়ী দেখিয়ে ইউসিবির ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ।

ব্যাংকটির নথি অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে এসব ভুয়া ঋণ দেওয়া হয়। ওই সময় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পরিবারের হাতে।

সাবেক ওই মন্ত্রীর পরিবারকে এসব ঋণের সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুয়া এসব অ্যাকাউন্টে ঋণের অর্থ যাওয়ার পর নগদে উত্তোলন করে জাবেদ পরিবারের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে অন্যদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করার পর জাবেদ পরিবারের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের তথ্যও পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাজীর পাড়ার বাসিন্দা রাসেল আহমেদ। জরাজীর্ণ মাটির ঘর তাঁর। তিনি বর্তমানে রক্তশূন্যতায় ভুগছেন। অন্যের সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতেও পারেন না।

অসহায় রাসেলকে সাহায্য দেওয়ার কথা বলে চার বছর আগে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেন এক ব্যক্তি। আজ অবধি কোনো সাহায্য পাননি রাসেল। তবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শাখায় তাঁর নামে ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার ঋণ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতারক চক্র রাসেল আহমেদকে রাসেল এন্টারপ্রাইজের মালিক সাজিয়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে তাঁর নামে এ ঋণ নেয়। শয্যাশায়ী রাসেল বলেন, ঋণের আবেদন তো দূরে থাক, কখনও এই ব্যাংকে যাননি তিনি। কোনো ব্যাংক হিসাবও খোলেননি।

প্রতারণার শিকার বাকীদের গল্পও প্রায় একই ধরণের। পটিয়া ছাড়াও কক্সবাজার, বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকার ১৩ জন ঋণগ্রস্তের বাড়ি গিয়ে সবার কাছে প্রায় একই গল্প পাওয়া যায়।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি জালিয়াতি হয় রাজধানীর কারওয়ান বাজার শাখায়। ওই শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক শরীফ আবদুল্লাহ সরকার পতনের পরই দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

এ শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপকের সঙ্গে গত ২৩ নভেম্বর যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। শুধু বলেন, ‘এটি খুব স্পর্শকাতর ইস্যু। এসব নিয়ে আমরা সহকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা করি না। আপনি প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন।’

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পরিবার দেশছাড়া। জাবেদের বক্তব্য চেয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর ইমেইল এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে এসএমএস করা হয়। তবে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য চেয়ে অনুসন্ধানকারী ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহির, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশীদ এবং ব্যাংকটির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা জীশান কিংশুক হককে লিখিতভাবে প্রশ্ন পাঠায়।

কয়েক দফা যোগাযোগের এক পর্যায়ে জীশান কিংশুক টেলিফোনে বলেন, এ বিষয়ে দুদক মামলা করায় এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে এতটুকু বলতে পারেন, জড়িতদের বিষয়ে ইউসিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ঋণ বিতরণের আগে বিভিন্ন নিয়ম-আচার পরিপালন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তা না করে দিনমজুরদের নামে কোটি কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা স্রেফ জালিয়াতি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নামে এসব ঋণ দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে আত্মসাতের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক মামলা করেছে দুদক। দুদকের অধিকাংশ মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাবেদ, তাঁর পরিবারের সদস্য, ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৬৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এসব ঋণ প্রতিবছর শাখা থেকে নবায়ন করায় এখনও খেলাপি হয়নি। ‍

সূত্র: সমকাল