সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চললেও টার্গেট কিলিং থামছে না। ব্যস্ত সড়কে, প্রকাশ্যে দিনদুপুরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। রাজনৈতিক নেতা, জুলাইযোদ্ধা, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরা এসব হামলার শিকার হচ্ছেন।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকী। সারা দেশে এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। সহিংসতা ও নানা ধরনের অপরাধের মধ্যে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
টার্গেট কিলিংয়ের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘাতকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় দেশজুড়ে আতঙ্ক আরো বাড়ছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন হত্যাকাণ্ড আরও বাড়তে পারে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি রাজধানীর কাওরান বাজারে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সময়ে যশোর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতা, যুবদল নেতা, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।
বিশিষ্টজনদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সহিংসতার এই ধারা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
খুন, ডাকাতি, চুরি, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা থামছে না। সহিংসতা, হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠছে।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের মনোবল দুর্বল হওয়া, ঘনঘন রাজপথে বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে- এমনটাই বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান দাবি করেন, নির্বাচন সামনে রেখে দলের অগ্রগতি ঠেকাতেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঁদাবাজির বিষয় জড়িত।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির অনেক রাজনৈতিক নেতা হত্যার শিকার হলেও সরকার এসব ঘটনায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এই ধরনের ঘটনার পর মামলা দায়ের করা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করাও হয়েছে, তবুও ঘটনা ঘটার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
পুলিশ সদর দপ্তর এবং কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় মোট ৫,৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ১,৩৩৩টি এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২,২০০ বন্দীর মধ্যে এখনো ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এই পালিয়ে থাকা অপরাধী ও উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ রিসেন্ট কিছু ঘটনা দেখে। ওসমান হাদির মৃত্যু ছাড়াও আরও দুই-একটি টার্গেট কিলিং হয়েছে। এটি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। ভোটারদের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘যারা টার্গেট কিলিংয়ে জড়িত আমরা তাদের তালিকা করেছি। গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে অনেকে। আবার কিছু মানুষকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’



