সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক বৈঠকের পর আমিরের মন্তব্য ঘিরে জাতীয় সরকার গঠনের প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসছে।
জামায়াত আমির সুনির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও তার মন্তব্যে এসেছে যে, নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে তারা বিএনপি নেতার সঙ্গে কথা বলতে চান। তারা জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে চান সবাই মিলেমিশে।
সাম্প্রতিককালে বিএনপি-জামায়াতের নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এই মিলেমিশে কিছু করার আগ্রহকেই বিশ্লেষকরা জাতীয় সরকার গঠনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।
তবে ১২ই ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেছে জামায়াতে ইসলামী। আর বিএনপি বলছে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা। এখন প্রশ্ন উঠছে, বিএনপি ও জামায়াতের দুটি প্রস্তাবের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না।
ইতোমধ্যেই দুই দলের নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা অনেক ডালা-পালা মেলেছে। শেষপর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত মিলে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভবনা আছে কি না, আবারও কি একপক্ষীয় সংসদ হচ্ছে অথবা সংসদে বিরোধী দল থাকবে কি না-এ ধরনের নানা কথা আলোচনা রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোকবইয়ে সাক্ষর করতে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন জামায়াত আমির। বৈঠক শেষে জামায়াতের আমির সাংবাদিকদের যা বলেছেন, তা নিয়েই চলছে বিশ্লেষন।
জামায়াত আমির সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন,‘আমরা বলেছি যে, পাঁচটা বৎসরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে, একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে, আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি কি না, সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার।’
তিনি আরো বলেছেন,‘আমরা এটাও বলেছি, নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগেই আমরা ইনশা আল্লাহ বসব; খোলা মনে কথা বলব। জাতির জন্য আমরা চিন্তা করব; জাতির জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই বক্তব্যকেই ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ বলে মনে করছেন। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগহীন রাজনৈতিক পরিবেশে ভারসাম্য ও নির্বাচনকে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থা দেখানো দলগুলোর লক্ষ্য হতে পারে।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, নির্বাচন পরবর্তী সরকার কোন ধরনের হবে, তা নিয়ে নেতারা সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। মূলত, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল, তখনকার পরিস্থিতি ও বাস্তবতার ওপর।
সূত্র: বিবিসি বাংলা



