যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে এক অভিবাসন কর্মকর্তার ছোঁড়া গুলিতে নিহত নারী রেনে নিকোল ম্যাকলিন গুড। ৩৭ বছর বয়সী রেনে তিন সন্তানের মা, একজন কবি ও লেখক ছিলেন এবং সম্প্রতি মিনেসোটায় বসবাস শুরু করেছিলেন।
রেনে গুড কলোরাডোতে জন্মগ্রহণকারী একজন মার্কিন নাগরিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো গুরুতর অভিযোগ ছিল না; কেবল একটি ট্রাফিক টিকিটের রেকর্ড ছিল বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে তিনি পরিচয় দিতেন “কবি, লেখক, স্ত্রী ও মা” হিসেবে। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছিলেন যে তিনি বর্তমানে “মিনিয়াপোলিসকে অনুভব করছেন”, যেখানে একটি প্রাইড ফ্ল্যাগ ইমোজিও ব্যবহার করেছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
রেনের সাবেক স্বামী—যিনি সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নাম প্রকাশ করতে চাননি—জানান, বুধবার সকালে (৭ জানুয়ারি) রেনে তার ৬ বছর বয়সী ছেলেকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মিনিয়াপোলিসের একটি তুষারাচ্ছন্ন সড়কে তারা একদল আইস এজেন্টের মুখোমুখি হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, এক কর্মকর্তা রেনের গাড়ির কাছে এসে দরজা খুলতে বলেন এবং দরজার হাতল ধরে টান দেন। গাড়িটি সামান্য সামনে এগোতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক আইস এজেন্ট (অভিবাসন কর্মকর্তা) অস্ত্র বের করে কাছ থেকে অন্তত দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
পরবর্তী আরেকটি ভিডিওতে একজনকে গাড়ির পাশে বসে চিৎকার করতে শোনা যায়—“ও আমার স্ত্রী, আমি জানি না কী করব!”
সরকারি দাবি ও পরিবারের বক্তব্য
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, রেনে গুড নাকি গাড়ি দিয়ে ফেডারেল এজেন্টদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাকে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে তার সাবেক স্বামী এই দাবি নাকচ করে বলেন, রেনে কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা প্রতিবাদ আন্দোলনের সঙ্গে কখনো যুক্ত ছিলেন না।
তিনি আরও জানান, রেনে একজন ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান ছিলেন এবং তরুণ বয়সে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে যুব মিশন ট্রিপে অংশ নিয়েছিলেন। গান গাওয়ার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল; স্কুলে কোরাসে অংশ নিতেন এবং কলেজে ভোকাল পারফরম্যান্স অধ্যয়ন করেছিলেন।
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন
রেনে ভার্জিনিয়ার ওল্ড ডমিনিয়ন ইউনিভার্সিটিতে সৃজনশীল লেখালেখি অধ্যয়ন করেন এবং ২০২০ সালে তার একটি লেখার জন্য পুরস্কার পান। ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করা তার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে তিনি একটি পডকাস্টও পরিচালনা করতেন।
তার প্রথম সংসার থেকে ১৫ ও ১২ বছর বয়সী এক কন্যা ও এক পুত্র রয়েছে। দ্বিতীয় সংসার থেকে তার ৬ বছর বয়সী আরেক পুত্র রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি মূলত গৃহিণী ছিলেন, তবে এর আগে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একটি ক্রেডিট ইউনিয়নে কাজ করেছেন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
রেনের মা ডোনা গ্যাঙ্গার বলেন, “রেনে ছিল আমার দেখা সবচেয়ে দয়ালু মানুষদের একজন। সে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ছিল। সারাজীবন অন্যদের যত্ন নিয়েছে। সে ছিল ভালোবাসায় ভরপুর, ক্ষমাশীল ও স্নেহশীল—একজন অসাধারণ মানুষ।”
সূত্র: মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউন



