ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় সিঙ্গাপুরে। গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করেছে যমুনা টেলিভিশন।
এদিকে, এই মামলার তদন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ (৩৭) , তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
চার্জশিটে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তবে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই হত্যাকান্ড রাজনৈতিক কারণেই সংগঠিত হয়েছে।
আদালতে চার্জশিট দাখিলের আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন সময়ের আলোচিত রাজনৈতিক কণ্ঠ।
জনাব শফিকুল আরো বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসাবে তিনি সভা-সমাবেশ, টেলিভিশন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অতিত সহিংস কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা করতেন। এতেই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণতা তৈরি হয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানাচ্ছে, হাদি হত্যার ছক চূড়ান্ত হয় সিঙ্গাপুরে বসে। হত্যা পরিকল্পনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা, সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পী এবং হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ।
এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পতিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। সিঙ্গাপুরে বসে ওই নেটওয়ার্কের পাঁচ দিনব্যাপী একাধিক বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা।
সূত্র বলছে, শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছরের ২১ জুলাই সিঙ্গাপুরে যান। পরদিন ২২ জুলাই সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী একটি হোটেলে আওয়ামী লীগের চারজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-জাহাঙ্গীর কবির নানক, ইলিয়াস মোল্লা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীসহ আরও একজন।
সূত্রের দাবি, ৫ দিনব্যাপী ওই বৈঠকেই হত্যার চূড়ান্ত রূপরেখা, অর্থের লেনদেন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এরপর ২৬ জুলাই দেশে ফেরেন ফয়সাল। তারপরই ফয়সালের সন্তানের নামে একটি ব্যাংকে ৫৫ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) খোলার তথ্য পায় তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ হত্যাকাণ্ডের পারিশ্রমিক ও পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ।
পুলিশের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক পরিকল্পিতভাবে ওসমান হাদিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল নির্দেশদাতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীকে। আর হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদকে।



