ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেককে হত্যার পর ঢাকার বাইরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
রাজধানীর পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জে এ রকম একটি কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে গুম করে মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ে হত্যার পর নদী ও সাগরে ফেলে দেওয়া হতো।
রাজধানীর গুলশানে গতকাল সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় গুমসংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন।
কমিশন বলেছে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগের সঙ্গে র্যাব জড়িত, পুলিশ ২৩ শতাংশে। ডিবি , সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআই এসব গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গুমসংক্রান্ত কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, তুলে নেওয়ার স্থান, আয়নাঘর ও রেখে দেওয়ার স্থান পরিদর্শন করেছে।
মুন্সিগঞ্জে বেওয়ারিশ লাশ দাফনের একটি কবরস্থান পাওয়া গেছে। সেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত হয়েছে।
বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে এর আগে জানিয়েছিল গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। অনেক গুমের সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি গতকাল রবিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সরকারি বাস-ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
গুমসংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুমের শিকারদের ৭৫ শতাংশ ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য।
অন্যদিকে, যেসব ব্যক্তি এখনো ফিরে আসেননি, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি’র রাজনীতি ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
কমিশনের ধারণা, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকৃত গুমের সংখ্যা ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ হতে পারে। প্রতিশোধের ভয়, কম অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের দেশত্যাগের কারণে প্রকৃত সংখ্যা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।



