রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বৈঠকে বসছে। তবে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে যাওয়ায় আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার আগ পর্যন্ত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই বৈঠক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তথাকথিত “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং” দেশগুলো গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা করে আসছে—যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে ভবিষ্যতে যেন রাশিয়া আবার ইউক্রেনের ওপর হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, এই শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেনকে সুরক্ষা দেওয়া এবং “ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি” নিশ্চিত করতে মিত্ররা সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেবে।
বড় পরিসরের অংশগ্রহণ
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবারের বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন ৩৫ জন প্রতিনিধি, যার মধ্যে ২৭ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। তবে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপসংক্রান্ত কারণে তিনি সফর বাতিল করেন বলে জানানো হয়েছে।
আলোচনার পাঁচ মূল লক্ষ্য
যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে পাঁচটি প্রধান বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা হবে—
◑যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি
◑ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা
◑স্থল, নৌ ও আকাশপথে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন
◑রাশিয়ার নতুন আগ্রাসনের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা
◑ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ভেনেজুয়েলায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পরবর্তী পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত থাকায়, এসব বিষয়ে মঙ্গলবার বাস্তব অগ্রগতি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্যারান্টি চায় কিয়েভ
ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে, যা অন্যান্য মিত্রদের কাছ থেকেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কিয়েভ। ইউক্রেন আশঙ্কা করছে, দৃঢ় গ্যারান্টি ছাড়া যুদ্ধবিরতি হলে রাশিয়া সেই সময় ব্যবহার করে আবার নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আগে স্টিভ উইটকফ ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গত ৩১ ডিসেম্বর দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
ইউরোপীয় বাহিনী নিয়ে দ্বিধা
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনে সম্ভাব্য ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন নিয়ে এখনও অনেক জটিলতা রয়ে গেছে এবং “সব দেশ এখনও প্রস্তুত নয়”। অনেক দেশের ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি বলেন, সেনা না পাঠালেও অস্ত্র, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তার মাধ্যমে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া সম্ভব। জেলেনস্কির মতে, ব্রিটেন ও ফ্রান্স—পশ্চিম ইউরোপের দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ—যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে সক্রিয় ভূমিকা না নিলে পুরো জোটের কার্যকারিতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), দ্য হিন্দু



