― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

অনন্তে অমলিন খালেদা জিয়া

কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে অনন্ত যাত্রায় সামিল হয়েছেন গণতন্ত্রকামী মানুষের আশার বাতিঘর বেগম খালেদা জিয়া। থেমে গেছে তাঁর দীর্ঘ ৪৩ বছরের আপসহীন, সংগ্রামী, লড়াকু রাজনৈতিক জীবন। তাঁর মৃত্যুতে জাতি হারালো রাজনীতির এক নির্ভরযোগ্য অভিভাবককে।

গ্রামবাংলার লাজুক এক গৃহবধূ থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রশ্নে জীবনে একদিনের জন্যও আপস করেননি। ফ্যাসিবাদ, স্বৈরশাসনের সামনে এক মুহূর্তের জন্য হার মানেননি তিনি।

প্রতিপক্ষের হিংসা, নির্যাতন, রাজনৈতিক আঘাতের জবাব তিনি দিয়েছেন শালীন ও রাজনীতির ভাষায়। হিংসার জবাব দিয়েছেন শান্তির বলিষ্ঠ কণ্ঠে। প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তিনি ছিলেন সামনের সারির লড়াকু এক যোদ্ধা। নির্বাচনী ইতিহাসে যার কোনো পরাজয় ছিলনা।

ফ্যাসিস্ট আমলে বেগম খালেদা জিয়া পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন কক্ষে বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে। বন্দী জীবনে তাকে থাকার কষ্ট, খাওয়ার কষ্ট দেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের কষ্টই দেয়া হয়েছিল ফ্যাসিস্টের নিয়োগপ্রাপ্ত কারা কর্মকর্তাদেরকে দিয়ে।

কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগারে তিনি যতদিন ছিলেন কখনো কারা কর্তৃপক্ষের দেয়া খাবার গ্রহণ করা ছাড়া বাড়তি কোনো চাহিদা করতেন না। তিনি সবসময়ই আইনের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল।

গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে শান্তি, পুতুল (ডাক নাম) থেকে হয়ে উঠে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। যিনি ছিলেন গণমানুষের এক বিশ্বস্ত ঠিকানা। হয়ে উঠেছিলেন গণমুখী রাজনীতির উজ্জ্বল এক নক্ষত্র, গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষায় এক লড়াকু সৈনিক।

জীবদ্দশায় যিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, …এই দেশ, এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষই আমার সবকিছু।’ দেশ-মাটি ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা নিবিড় বন্ধন ছিন্ন করে চিরবিদায় নিলেন তিনি।

১৯৪৫ থেকে ২০২৫ এই দির্ঘ্য ৮০ বছর বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ১৯৮১ সালে যখন হত্যা করা হয়, সেই প্রেক্ষাপটে বিপর্যস্ত বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেছিলেন।

মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বিধবা হওয়া খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে কোন চিন্তাই ছিল না। এর আগে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময়ও খালেদা জিয়া কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হননি।

খালেদা জিয়ার জীবন কাহিনী নিয়ে বই প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। তিনিও আর বেঁচে নেই। বইটি প্রকাশের সময় মাহফুজ উল্লাহ বলেছিলেন, অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার পর খালেদা জিয়া পুরুষ শাসিত সমাজে একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে এসে যোগ্যতা দিয়ে নিজের আসন তৈরি করে নেন।

জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়া বিএনপিতে খালেদা জিয়া যোগ দেন ১৯৮৩ সালের ৩রা জানুয়ারি। প্রথমে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান হন। এর পরের বছর ১৯৮৪ সালের ১০ই মে বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন তিনি।