― Advertisement ―

যেসব কারণে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া বন্ধ করছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন বাতিল ও স্থগিত করছে যুক্তরাজ্যের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়। ভিসা জালিয়াতি এবং হোম অফিসের কঠোর নিয়মের কারণে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া বন্ধ করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। দেশটির অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পর ভিসার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, নতুন ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ মানদণ্ডে অন্তত ২২টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ তারা যেকোনো সময় এ মানদণ্ডে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় আছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের ভিসা রিফিউজাল হার ৫ শতাংশের বেশি হলে সেই বিশ্ববিদ্যালয় তার স্পন্সর লাইসেন্স হারাতে পারে।

লাইসেন্স হারালে বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্তত এক বছর কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসার জন্য স্পন্সর করতে পারবে না, এমনকি আগের দেওয়া অফারও বাতিল হয়ে যেতে পারে। এ তালিকায় থাকা ২২টির মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়ে মানদণ্ড পূরণের চেষ্টা করলেও বাকি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অন্তত এক বছর শিক্ষার্থী স্পন্সর করার ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে আছে। এতে কয়েক হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ হারাতে পারে।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রকৃতই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আসছে কিনা তা যাচাই করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়েরই। যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দেয়; তবে অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে ভিসানীতিকে কঠোর করা ছাড়া উপায় নেই। নতুন নিয়মের লক্ষ্য একটাই—শুধু প্রকৃত শিক্ষার্থীরাই যেন যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষার্থী নির্বাচন করে।

যেসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তিতে এই পরিবর্তন এনেছে, সেগুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার আগামী বছরের শরৎকাল (অটাম) পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে সব ধরনের শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে। কারণ হিসেবে সম্প্রতি অপ্রত্যাশিতভাবে ভিসা আবেদন নাকচের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে তারা। ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে স্নাতকের শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করছে না। ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করছে।

এ ছাড়া লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সান্ডারল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড ব্রুকস, বিপিপিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোথাও সরাসরি নিষেধাজ্ঞার ভাষা ব্যবহার না করলেও বাস্তবে শিক্ষার্থীরা ভর্তির নিশ্চয়তাপত্র (সিএএস লেটার) পাচ্ছেন না বা আবেদন গ্রহণই বন্ধ রাখা হয়েছে।

সান্ডারল্যান্ড ও কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভর্তির আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছে। হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় আগামী বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, তাদের যেসব শিক্ষার্থীর ভিসা আবেদন নাকচ হয়েছে, তার ৬০ শতাংশ এ দেশের।

সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এসব পরিবর্তন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের ভিসা আবেদনগুলোর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি যেন প্রত্যাখ্যাত না হয় (আগের সীমা ছিল ১০ শতাংশ)। সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বছরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের (নির্ভরশীল বাদে) গড় প্রত্যাখ্যান হার ছিল যথাক্রমে ১৮ এবং ২২ শতাংশ—যা নতুন সীমার চেয়ে অনেক বেশি।