নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের পক্ষথেকে বলা হচ্ছে একই দিনে গণভোট আয়োজন করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ এর খসড়া নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, একই দিনে ৩০০ আসনে একটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফলাফল হতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এবার সেখানে বাড়তি একটি ব্যালট যুক্ত হচ্ছে যেটি ইসির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, বাংলাদেশে এর আগে তিনটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের কোন নজির নেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী ভোটসহ একই দিনে প্রায় ১৩কোটি ভোটারের নির্বাচন আয়োজনে ইসির সক্ষমতা কতটুকু সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
গত ১৩ই নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একই দিনে দুইটি নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন। এরপরই গণভোট নিয়ে কাজ শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ এর খসড়া নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসীর ভোট দিবে। আবার একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়’।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের জন্য দায়িত্বে যে সব রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসাররা থাকবেন, তারাই গণভোটের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। গণভোটের চারটি বিষয় উল্লেখ থাকলে হ্যাঁ বা না ভোট দেওয়ার জন্য একটি মাত্র ভোট দিতে হবে বলেই জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা।
সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জেসমিন টুলী বলেন, ‘এমনিতেই শীতের দিন। তার ওপর দুইটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। আমাদের দেশের অনেক ভোটারই এটি নিয়ে খুব একটা সচেতন না। যে কারণে ভোট দিতে সময় লাগতে পারে। যাতে বিশৃঙ্খলাও বাড়তে পারে’।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের কারণে ভোটের ফল হতে সময় লাগলে এটি নিয়ে এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হতে পারে কমিশনকে। এছাড়াও এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। সেক্ষেত্রে নির্বাচনকে প্রতিহত করতে দলটির কর্মী সমর্থকদের প্রচেষ্টা করতে পারে।
গণভোটের কথা জানিয়ে সরকারের চিঠি পাওয়ার পর সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করতে হবে, একই রিসোর্স ব্যবহার করে। এটা আগে ছিল না। আগের কোনো কমিশনকে এই চ্যালেঞ্জ নিতে হয়নি। এজন্য অনেকগুলো অতিরিক্ত কাজ করতে হবে আমাদের’।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, আর কয়েকদিনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। যে কারণে আগেই ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে থেকে প্রশিক্ষণও শুরু হয়ে গিয়েছে।



