― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

অযাচিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধের কার্যকারিতা অনেকাংশেই কমে গেছে। ফলে উদ্বেগজনক হারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বাড়িয়ে তুলেছে।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাম্প্রতিক জাতীয় জরিপে উঠে এসেছে যে, দেশের আইসিইউতে ভর্তি ৪১ শতাংশ রোগীর শরীরে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করছে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের ভাষায়, এ অবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই এক বছর পরিচালিত কেস–ভিত্তিক নজরদারি জরিপে ৯৬ হাজারের বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। যাতে দেখা যায়, পাঁচটি আইসিইউ থেকে সংগৃহীত নমুনায় ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা করে দেখা হয়। যাতে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর দেহে কোনো ওষুধই কাজ করছে না।

গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআরের নতুন ভবনে এক অনুষ্ঠানে এএমআর–বিষয়ক জাতীয় জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন হাবিব।

অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘যথেচ্ছভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে। এই এএমআর এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকট।’ সবাইকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেভ অ্যান্টিবায়োটিক, সেভ ইয়োরসেলফ।’

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাজধানী ঢাকাতেই মোট অ্যান্টিবায়োটিকের ৫৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসাসুবিধা, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় রাজধানীতে এ হার তুলনামূলক বেশি। এর পর পর্যায়ক্রমে রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট।

এছাড়া ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (ইউটিআই) আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেও উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রড–স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করে তুলতে পারে।

দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সেফট্রিয়াক্সন, সেফিক্সিম, মেরোপেনেম, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, আজিথ্রোমাইসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্রোনিডাজল, ক্লক্সাসিলিন, পিপেরাসিলিন–ট্যাজোব্যাকটাম ও ভ্যানকোমাইসিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনা প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ সেবন, প্রাণিসম্পদ খাতে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা এ সংকটকে আরও গভীর করছে। এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে সাধারণ সংক্রমণও ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।