― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

সোনাদিয়া দ্বীপে সন্ধান মিলেছে মূল্যবান খনিজ সম্পদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটারের এলাকা নিয়ে সোনাদিয়াদ্বীপের অবস্থান। নৈসর্গিক সৌন্দর্য আর নয়নাভিরাম দৃশ্যের মিশেলে গড়া এই দ্বীপে সম্প্রতি সন্ধান মিলেছে ভারী প্রাকৃতিক খনিজ ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গারনেট, জিরকন, রুটাইল ও মোনাজাইট।

সেখানে এ ধরনের মূল্যবান খনিজ সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক সাত লাখ টন বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা জার্নাল ‘ডিসকভার জিওসায়েন্স’। প্রতিষ্ঠানটির একটি গবেষণাপত্রে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

গবেষণাটি করেছে নিউজিলান্ডের ডুনেডিনের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন গবেষক।

জানা গেছে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সোনাদিয়া দ্বীপ নিয়ে করা গবেষণায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি খনিজের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করেন গবেষকরা।

এতে দেখা যায় জিরকন, রুটাইল ও ইলমেনাইটের মতো খনিজগুলোয় তাদের মূল উপাদানগুলো উচ্চ ঘনত্বে বিদ্যমান। এছাড়া অ্যাম্ফিবোল, মাস্কোভাইট, কোয়ার্টজসহ অন্যান্য খনিজের উপস্থিতি ও পরিমাণও নির্ণয় করা হয়েছে গবেষণায়।

গবেষণায় দ্বীপটিতে যে পরিমাণ ভারী খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা যৎসামান্য বলে মনে করে ইনস্টিটিউট অব মাইনিং, মিনারেলজি অ্যান্ড মেটালার্জি (আইএমএমএম)।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সম্পদের আর্থিক হিসাব না মিললেও বাণিজ্যিকভাবে তা উত্তোলন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, সরকার এখন নদীর বালিকে প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। এজন্য লজিস্টিক সক্ষমতার প্রকল্পও নেয়া হয়েছে এরই মধ্যে।

তবে সমুদ্র বা দ্বীপাঞ্চলের বালি নিয়ে সরকার এখনই ভাবছে না। প্রতি বছর নদীতে যে পরিমাণ পলি আসে তার ১০ ভাগও যদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারী খনিজের বাণিজ্যিক ব্যবহার করা যায় তাহলে বছরে ২ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আমিনুর রহমান জানান, ‘কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপের ভারী খনিজ সম্পদ নিয়ে ১৯৮০ সালেও গবেষণা হয়। তখনকার গবেষণায় ওই অঞ্চলে ২১ মিলিয়ন (২ কোটি ১০ লাখ) টন ভারী খনিজ সম্পদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়।’

এ বিষয়ে ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, ‘সোনাদিয়া দ্বীপের মতো এলাকায় অবশ্যই হেভি মিনারেল আছে। আমার পরামর্শ হলো, এসব খনিজ সম্পদ নিয়ে সঠিক স্টাডি হওয়া প্রয়োজন। সরকার এরই মধ্যে চেষ্টা করছে। তবে শুরুতেই বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে যেন স্টাডি করা না হয়।

তিনি আরো বলেন, এসব খনিজ পদার্থের সঙ্গে অনেক রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট আছে, যেগুলো খুবই দামি। উন্নত দেশগুলো যেগুলো হন্যে হয়ে খুঁজছে। এ ধরনের এলিমেন্ট আমাদের দেশে থাকার সুযোগ আছে। তাই এ নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই। ধীরেসুস্থে সঠিকভাবে স্টাডি করে আমাদের সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হোক।’