― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

উচ্চশিক্ষায় ১১ লাখ আসন ফাঁকা থাকতেও দেশ ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীরা স্নাতকে ভর্তি হলেও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে প্রায় ১১ লাখ আসন। এই বিপুল সংখ্যক আসন ফাঁকা থাকতেও উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

গত ২১ বছরের মধ্যে এবার এই পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাশের হারের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।তারা বলছেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও উচ্চশিক্ষায় ৬ লাখ আসন ফাঁকা থাকত।

এবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেশ কিছু কলেজ ও পিছিয়ে পড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ন্যূনতম একজন শিক্ষার্থীও না পাওয়ার আশংকা করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

এদিকে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) তথ্য মতে, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক দশকে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ জানতে বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী, বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে মোটাদাগে পাঁচটি কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে।

কারণগুলো হলো, মানসম্মত উচ্চশিক্ষার অভাব, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও বেকারত্ব বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উন্নত ভবিষ্যতের হাতছানি এবং নিরাপদ ও আধুনিক জীবনযাত্রার আকাঙ্ক্ষা।

এর সঙ্গে একমত শিক্ষাবিদেরাও। তারা বলছেন, দেশে উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থান না বাড়লে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

ইউনেসকোর সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ফ্লো অব টারশিয়ারি লেভেল স্টুডেন্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৫টি দেশে পড়াশোনার জন্য গেছেন ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৫১ আর ২০২১ সালে ৪৪ হাজার ৩৩৮ জন। এ সংখ্যা ২০১৩ সালে ছিল ২৪ হাজার ১১২ জন।

তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থী বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘গত বছর থেকে আমরা ভর্তি পরীক্ষা চালু করেছি। এতে মেধাভিত্তিক নির্বাচনের সুজোগ তৈরি হয়েছে, ফলে যোগ্য শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনিষ্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আলী জিন্নাহ বলেন, ‘দেশে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ঘাটতির ফলে বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উন্নত ভবিষ্যতের হাতছানি এবং নিরাপদ ও আধুনিক জীবনযাত্রার আকাঙ্ক্ষা এমন বহুমাত্রিক কারণে দেশ ছাড়ছে শিক্ষার্থীরা। তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশে রাখার উদ্দ্যেগ নেওয়া প্রয়োজন।’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা-দীক্ষার অবস্থা খুবই শোচনীয়। যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কর্মসংস্থানেরও ঘাটতি রয়েছে। এগুলোই প্রধান কারণ। এ ছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক নানান সংকট তো রয়েছেই।’

৮ অক্টোবর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, জার্মানিতে শিক্ষাব্যবস্থা খুবই উচ্চমানের এবং সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো ফি লাগে না। কাজেই বাংলাদেশি ছাত্ররা খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাওয়ার জন্য।

সার্বিক বিষয়ে জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেননি। এ বিষয়ে ইউজিসি’র সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তারা।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘মানসম্মত উচ্চ শিক্ষার বিষয়টি সামগ্রীক শিক্ষার ওপর নির্ভর করে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, এর প্রভাব উচ্চশিক্ষায় পড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান এক নয়। বিশেষ করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’