নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছেন, যা দেশের সকল বয়সের মানুষের মধ্যে আঘাতজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ। এছাড়াও, প্রতি বছর ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাতের শিকার হন। যাদের মধ্যে ৩৮,০২৮ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান। সম্প্রতি সরকারি এক জড়িপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫,৫০০ জন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর চেয়ে চারগুণ বেশি। প্রতিদিন ৬৬ জনের মৃত্যু হলে বছরের ৩৬৫ দিনে মৃত্যু দাঁড়ায় ২৪ হাজারের বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর রোড সেফটি সংক্রান্ত গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট ২০২৩-এ বলা হয়েছে যে ২০২১ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১,৫৭৮ জন মারা গেছেন।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পরিচালিত, ক্রস-সেকশনাল জাতীয় জরিপটি ৪.৪৩ লক্ষ অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সড়ক নিরাপত্তার অবনতি উদ্বেগজনক। বিপুল সংখ্যক অযোগ্য যানবাহনের মহাসড়কে চলাচল, দক্ষ চালকের অভাব, ছোট এবং ধীর গতির যানবাহন বৃদ্ধি, এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ সড়ক পরিবহন খাতকে বিশৃঙ্খলা ও চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
তারা উল্লেখ করেছেন যে, প্রভাবশালী পরিবহন সমিতিগুলি প্রায়শই তাদের নিজস্ব সুবিধার জন্য এই অব্যবস্থাপনাকে স্থায়ী করে তোলেন। যার ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়কে নিহত হচ্ছেন এবং অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং পুলিশের তথ্য অনুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ থেকে ৬ হাজারের এর মধ্যে থাকলেও, বেসরকারি সংস্থাগুলি অনুমান করে যে এই সংখ্যা ৬,০০০ থেকে ১০,০০০ এর মধ্যে।
সর্বশেষ জরিপের প্রধান তদন্তকারী সেলিম মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন যে, যদিও বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যাটি কিছুটা কমেছে। তবে মৃত্যুহার এবং আঘাত পেয়ে পঙ্গুত্ব বরণের ক্ষেত্রে এটি এখনো জনস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ। তবুও বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।
তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার আঘাত প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার না দিলে এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ও আঘাত কমাতে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন সম্ভব হবে না।
২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৩,১১৬ জন মারা গেছেন, যা আঘাতজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। সর্বশেষ জরিপ অনুসারে, এই সংখ্যা ৩.২৪ শতাংশ বেড়ে ২৪,২৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যা সড়ক দুর্ঘটনাকে এই ধরনের মৃত্যুর প্রধান কারণ করে তুলেছে।



