আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় দুইজন গ্রাউন্ড স্টাফের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) এমিরেটসের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে সমুদ্রে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ফ্লাইট EK9788 দুবাই থেকে হংকং আসার সময় স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টা ৫০ মিনিটে অবতরণের মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের বাইরে চলে যায় এবং একটি বিমানবন্দর প্যাট্রোল গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গাড়িতে থাকা দুই কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিমানে থাকা চার ক্রু সদস্য সবাই বেঁচে গেছেন।
হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইলটকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং রানওয়েতে সব প্রয়োজনীয় নির্দেশক চিহ্ন ছিল। বিমানটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে বেড়া ভেঙে সমুদ্রের দিকে চলে যায়।
বিমানবন্দর অপারেশনস এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্টিভেন ইউ বলেন, “দুর্ঘটনার সময় প্যাট্রোল গাড়িটি রানওয়ের বাইরে নিরাপদ দূরত্বে ছিল। সাধারণত কোনো বিমান এভাবে সমুদ্রের দিকে ঘুরে যায় না।”
ডুবুরিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির চালক ও সহকারীর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত দুই কর্মীর বয়স যথাক্রমে ৩০ ও ৪১ বছর, এবং তারা যথাক্রমে ৭ ও ১২ বছর ধরে বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন।
এমিরেটসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বোয়িং ৭৪৭-৪৮১ কার্গো বিমানটি তুরস্ক থেকে ‘ওয়েট লিজ’ চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় বিমানে কোনো পণ্য ছিল না।
ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটি মাঝখানে ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেছে—একাংশ পানির নিচে ডুবে আছে। অন্তত একটি জরুরি স্লাইড খুলে যাত্রীরা সেখান দিয়ে বেরিয়ে আসেন।
হংকং এয়ার অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অথরিটি জানিয়েছে, তারা এখনো ব্ল্যাক বক্স (ফ্লাইট ডাটা ও ভয়েস রেকর্ডার) উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট রানওয়েটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে বাকি দুটি রানওয়ে চালু আছে। সোমবার অন্তত ১১টি কার্গো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে বিমানবন্দরটি কাই তাক থেকে চেক ল্যাপ কক-এ স্থানান্তরিত হওয়ার পর এটি মাত্র দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে ১৯৯৯ সালে চায়না এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট টাইফুনের সময় অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।



