― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

দেশে অ্যান্টিবায়োটিক ৯৭ শতাংশ কার্যকারিতা হারিয়েছে : ডব্লিউএইচও

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বহুল ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক মানব শরীরে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকারিতা হারিয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে। অতিরিক্ত ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা, নিজে থেকে ওষুধ সেবন এবং অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার কারণে এই অবস্থা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রচলিত আইনে এবং উচ্চ আদালতের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনো চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়াই ফার্মাসিগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হচ্ছে। অনেক চিকিৎসকও অপ্রয়োজনে বিস্তৃত কার্যকারিতার (ব্রড-স্পেকট্রাম) অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন।

আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সার্ভিলেন্স রিপোর্ট ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, মারাত্মক সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ইমিপেনেমের বিরুদ্ধে ‘অ্যাসিনেটোব্যাকটার এসপিপি’ নামক ব্যাকটেরিয়ার ৯৭ শতাংশ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, রোগের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের সংবেদনশীলতা পরীক্ষার পর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা জরুরি। এসব অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা ও রোগের কালচার করার জন্য দেশে পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

এছাড়া, রক্তপ্রবাহ ও মূত্রনালীর সংক্রমণের জন্য দায়ী ‘ই. কোলাই’ ও ‘ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া’ ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে থার্ড জেনারেশন সেফালোস্পোরিন ও ফ্লুরোকুইনলোনসের মতো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধ ক্ষমতা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ রেজিস্ট্যান্স হারের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) তৈরি হলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের মতো জীবাণুর বিরুদ্ধে ওষুধ কাজ করে না। এর ফলে সাধারণ রোগেও মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৭.৩ শতাংশ ফার্মেসি বিক্রেতাই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবগত নন। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির মতে, দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসির সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ হলেও এর দ্বিগুণ সংখ্যক ফার্মেসি লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট ছাড়াই চলছে।

শুধু মানুষ নয়, হাঁস-মুরগির খামারেও অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক মেশানো হচ্ছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল হক বেগ জানান, মুরগির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সুস্থ মুরগিকেও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে, যা প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উত্থানকে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২১ সালের এক গবেষণায় ঢাকার বাজার থেকে সংগৃহীত মুরগির নমুনায় ১৭টি অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী সালমোনেলা স্ট্রেইন পাওয়া গেছে।

তবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন হাবিবার মতে, বাংলাদেশের নমুনাগুলো টারশিয়ারি হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে রেজিস্ট্যান্সের হার সাধারণত অনেক বেশি থাকে।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাবেক পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় ক্রেতারাই দোকানদারদের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করতে বাধ্য করেন। এটিকে তিনি ‘সাংস্কৃতিক সমস্যা’ হিসেবেও দেখছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ ই মাহবুব বলেন, ‘প্রেসক্রিপশনভিত্তিক অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ না করলে, অবৈধ বিক্রিও বন্ধ করা সম্ভব নয়।’