আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজায় যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে মিসরের শার্ম আল-শেখে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পূর্বে গণমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় করা চুক্তির ‘বিষয়বস্তুর ভেতরেই শয়তান রয়েছে’ এবং গাজায় একবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো সতর্ক করে বলেছেন, চলমান শান্তি প্রক্রিয়া যদি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে না হয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংসের দিকে আগাবে।
বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যদি এই সমস্যার সমাধান না করি, যদি আমরা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের নাগরিকদের জন্য একটি ভবিষ্যৎ এবং আরব ও মুসলিম বিশ্ব এবং ইসরায়েলের মধ্যে একটি সম্পর্ক খুঁজে না পাই, তাহলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।’
এমন একটি দিনে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো, যেদিন হামাস গাজায় আটক শেষ জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিদের ইসরায়েলের হাতে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে মুক্তি দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারের সময় তিনি জানান, গত দুই বছরের সহিংসতা, ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা, কাতারে থাকা হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলি হামলা এবং অন্যান্য সংঘর্ষ এ অঞ্চলে গভীর বিভাজন ও সঙ্কট সৃষ্টি করেছে।
হামাস এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলীর অধীনে গাজার শাসনভার একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি সংস্থার কাছে হস্তান্তরে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে বাদশাহ বলেন, ‘কাতার এবং মিসরের মতো দেশগুলো তাদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। যারা মনে করে এই চুক্তি সবাই মেনে চলবে। তারা খুবই আশাবাদী।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কথা বলতে গিয়ে জর্দানের এই নেতা বলেন, তিনি ‘তার কথায় বিশ্বাস করেন না’। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, এমন কিছু ইসরায়েলি আছেন যাদের সঙ্গে আরব নেতারা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে পারেন।
বাদশাহ আবদুল্লাহর মতে, সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান হচ্ছে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান। পশ্চিম তীর ও গাজাসহ ফিলিস্তিন অঞ্চলে স্বাধীন একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নেতানিয়াহু দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে প্রত্যাখ্যান করায় এই অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক জটিলতা আরো বেড়েছে। তবুও বাদশাহ আবদুল্লাহ মনে করেন, কিছু ইসরায়েলি নেতার সঙ্গে আরব নেতারা শান্তির জন্য কাজ করতে সক্ষম হবে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা



