জীবনযাপন ডেস্ক
সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটা নিশ্চিত ভাবে উপকারী। তবে চিকিৎসকদের মতে, সবার জন্য এই নিয়ম মেনে চলা উপকারী নাও হতে পারে, বরং অতিরিক্ত হাঁটার কারণে কখনো কখনো শরীরের ক্ষতিও হতে পারে। তাই কিছু বিষয় জানা থাকলে, প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্ক থাকা সম্ভব।
অতিরিক্ত হাঁটার ফলে দেখা দিতে পারে যেসব সমস্যা।
সন্ধিতে অতিরিক্ত চাপ
প্রতিদিন দীর্ঘ সময় হাঁটার ফলে হাঁটু, কোমর ও গোড়ালির সন্ধিতে চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি তাদের হাঁটুর ওপর চাপ বাড়ে এবং ব্যথা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে নরম মাটিতে হাঁটা এবং আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করলে উপকার হতে পারে।
পেশির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে
হাঁটা মূলত শরীরের নিচের অংশকে সুঠাম করে গড়ে তোলে। তবে উপরের অংশে এর তেমন কোন প্রভাব পড়ে না। ফলে শরীরে পেশির ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে।
একঘেয়ে শরীরচর্চা
প্রতিদিন একই রকম হাঁটার ফলে শরীর একঘেয়ে হয়ে পড়ে। মস্তিষ্কও সেই অনুশীলনকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলে, ফলে এর অতিরিক্ত আর কোনো উপকার পাওয়া যায় না। এই সমস্যা এড়াতে বিভিন্ন ধরনের পাথুরে, উঁচু-নিচু বা ঢালু পথে হাঁটা উচিত।
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অনিদ্রা
অনেকে মনে করেন, প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটা একটি আদর্শ লক্ষ্যমাত্রা। তবে ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। এতে অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশির ব্যথা ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা শরীরচর্চার প্রতি অনীহা তৈরি করতে পারে।
হাঁটাই যথেষ্ট ভেবে অন্য ব্যায়াম বাদ দেওয়া
অনেকে ভাবেন হাঁটলেই শরীরচর্চা সম্পূর্ণ হয়। তবে এটি ভুল ধারণা। সুস্থ শরীর ও সুষম গঠনের জন্য হাঁটার পাশাপাশি ওজনসহ ব্যায়াম বা অন্যান্য অনুশীলনও প্রয়োজন।
হাঁটা একটি ভালো অভ্যাস হলেও, ব্যক্তিগত শারীরিক ক্ষমতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তার মাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ব্যায়ামের বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য বজায় রাখাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মূল চাবিকাঠি।
সূত্র : আনন্দবাজার



