― Advertisement ―

এবার ঢামেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

বরিশাল মেইল ডেস্কঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) একাডেমিক কাউন্সিলে এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ক্যাম্পাস ও হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ তদন্ত...

ভারতে একটি রোগের নাম ‘জয় বাংলা’, কি সেই রোগ?

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতে ব্যাপকভাবে একটি রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় ওই রোগকে ‘জয় বাংলা’ বলতেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিক পরিচিত স্লোগান হলেও সেই সময়ের ‘জয় বাংলা’ বলা হতো ‘চোখ ওঠা’ রোগ বা কনজাংটিভাইটিস রোগকে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শরণার্থী শিবিরগুলি থেকে পশ্চিমবঙ্গে চোখ ওঠা রোগটি ছড়িয়েছিল বলে মনে করা হলেও ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালের মতো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা গবেষণাপত্রসহ একাধিক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে ১৯৭১ সালে গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই রোগটি ছড়িয়েছিল। উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে সে বছর কনজাংটিভাইটিসকে মহামারি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

রোগটির নাম কেন ‘জয় বাংলা’ হলো? তা নিয়ে অবশ্য চালু রয়েছে একাধিক তত্ত্ব। এই বিষয়টি পাওয়া যায় একাত্তরের রাতদিন নামক একটি বইয়ে। বইটির লেখক সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী ১৯৭১ সালে নিয়মিতভাবে শরণার্থী শিবির ও রণাঙ্গনে ঘুরতেন।

দিলীপ চক্রবর্তী কয়েক বছর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক স্বাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা সেই সময় ভীষণভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমার বইতে বিষয়টার উল্লেখ করেছি। কেউ কেউ বলে থাকেন যে শরণার্থীদের কিছুটা তাচ্ছিল্য করার জন্য একটা রোগের নামকে ‘জয় বাংলা’ বলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সব থেকে জনপ্রিয় স্লোগানকে চোখ ওঠা রোগের নাম দেওয়ার সেটা কারণ ছিল না।

দিলীপ চক্রবর্তীর ভাষ্যমতে, ‘সেই সময়ে ইয়াহিয়া খান বাঙালীদের রক্তচক্ষু দেখাচ্ছিলেন, আর কনজাংটিভাইটিস হলেও চোখ লাল হয়ে যায়, সেইভাবেই রক্তচক্ষুর সূত্র ধরে লোকমুখে জয় বাংলা নামটা ছড়িয়ে পড়ে। আমার লেখাতেও এই ব্যাখ্যাই দিয়েছি আমি।’

মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে তখন পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন বেশ কিছু বিদেশী সাংবাদিক। তখন কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা রোগে কয়েকজন সাংবাদিকও আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। সম্ভবত সেকারণেই নিউ ইয়র্ক টাইমসও এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা