― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

স্থূলতার পরিমাণ বাড়ছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে স্থূল মানুষের সংখ্যা। অতিতে এই সমস্যাকে শুধু শহুরে রোগ হিসেবে দেখা হলেও এখন গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যেও মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের বলছেন, ফাস্টফুড, কোমল পানীয় ও ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি আকর্ষণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মোবাইল ফোন নিয়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, হরমোনজনিত জটিলতা ও বংশগত কারণ এই সমস্যার জন্য মূলত দায়ী।

স্থূলতা বাহ্যিক সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি এটি বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হূেরাগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, অস্থিসন্ধিজনিত ব্যথা এবং এমনকি কিছু ক্যানসারের সঙ্গেও স্থূলতার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ফলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দেশের জন্য ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের (বিডিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার হার ৪৫.৬ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ৩২.৬৭ শতাংশ। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার ৯.৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০০০ সালে দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ, যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশে। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে এ হার ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে ৮০ কোটির বেশি মানুষ স্থূলতায় ভুগছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪০০ কোটিতে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, স্থূলতার প্রধান কারণ কর্মহীন, কর্মবিমুখ, অলস জীবন যাপন, অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার খাওয়া। পাশাপাশি বংশগত বা জিনগত কারণেও মানুষ মোটা হতে পারে।

তিনি বলেন, কতগুলো অসুখেও মানুষ মুটিয়ে যেতে পারে। যেমন থাইরয়েড হরমোন এবং এই জাতীয় কিছু অসুখ রয়েছে—এ কারণেও মানুষ মোটা বা স্থূল হতে পারে। মেয়েদের পিসিওএস—এতে ওভারিতে ডিম্বাবানুর পরিমাণ কমে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া, স্থূলতার জন্য—হূেরাগ, উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, ব্রেনস্ট্রোক বেড়ে যায়, অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়ার কারণে শারীরিক গতিবিধি কমে যায়, ফলে লিভারে চর্বি জমে ফ্যাটিলিভারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এই জনস্বাস্থ্যবিদ বলেন, সব মিলিয়ে খাবার নিয়ন্ত্রণ করে, সচল নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করার মাধ্যমে শরীরটাকে কাজে লাগানো মধ্য দিয়ে আমরা স্থূলতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সুস্থ থাকা যায়।