নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা সেল সিআইসি। গতকাল রবিবার (১৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সিআইসি মহাপরিচালক আহসান হাবিব প্রধান উপদেষ্টার কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
এতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পৃথিবীর ৫টি দেশের ৭টি বড় শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, ৯টি দেশে ৩৫২টি পাসপোর্টের সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলো টাকার বিনিময়ে অর্জন করেছে কিছু বাংলাদেশি।
সম্পদের সন্ধান পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমেনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মালটা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।
সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব জানিয়েছেন, এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের একটি অংশমাত্র, আরও অনেক তথ্য উন্মোচন বাকি। এ অনুসন্ধান কাজে পৃথিবীর ছয়টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটাবেজ নিয়ন্ত্রণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গায়েব করেছিল। তবে সিআইসি এখন সেই তথ্য উদ্ধার করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এসব তথ্য শুনে বলেন, দেশের সম্পদ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দুদক, সিআইসি ও পুলিশের সিআইডিসহ সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি একে ভয়াবহ দেশদ্রোহিতা আখ্যা দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর দেশ গড়তে হলে এই লুটেরাদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।
এছাড়া অনুসন্ধান আরও বিস্তৃত করে বিদেশে গড়া সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দেশে ফেরাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।



